বন্যায় ক্ষতি ৮৬ হাজার ৮১২ কোটি টাকা

বন্যায় ক্ষতি ৮৬ হাজার ৮১২ কোটি টাকা
সাম্প্রতিক সময়ে বন্যায় দেশের ১৮টি জেলায় আনুমানিক ৮৬ হাজার ৮১১ কোটি ৬৫ লাখ ৫৯ হাজার ৮৭২ টাকার সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

সোমবার (২৫ জুলাই) সচিবালয়ে সাম্প্রতিক বন্যা, ক্ষয়ক্ষতিবিষয়ক পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ সংক্রান্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবার বন্যায় সারাদেশে আনুমানিক ৮৬ হাজার ৮১১ কোটি ৬৫ লাখ ৫৯ হাজার ৮৭২ টাকার সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের (সম্পূর্ণ) আনুমানিক আর্থিক মূল্য এক হাজার ২৫৮ কোটি ৫৩ লাখ ৯১ হাজার ১১২ টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের (আংশিক) আনুমানিক আর্থিক মূল্য ৫৫ হাজার ৯৫৭ কোটি ২১ লাখ ২০ হাজার ৫০৮ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি (সম্পূর্ণ) ৩৬৪ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ৪৩ টাকা এবং (আংশিক) এক হাজার ৩৫৫ কোটি ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৫৫ টাকা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্রিজ/কালভার্ট পাকা সড়ক, ইট-নির্মিত সড়ক, কাঁচা সড়ক, প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ, কমিউনিটি স্কুল, মসজিদ, মাদরাসা, মন্দির এবং বাঁধের সম্পূর্ণ ও আংশিক মিলিয়ে বন্যায় সারাদেশে ক্ষতি আনুমানিক ৮৬ হাজার ৮১১ কোটি ৬৫ লাখ ৫৯ হাজার ৮৭২ টাকা।

এনামুর রহমান বলেন, ১৪ জুন শুরু হওয়ার বন্যায় ১২ জন মারা গেছেন আর আহত হয়েছেন ২ হাজার ৮৮০ জন, আশ্রিত মানুষের সংখ্যা ৭২ লাখ ৮১ হাজার ২০৪ জন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৬ জন।

বেসরকারি হিসেবে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, সে সংখ্যা সম্ভবত ৭২ জনের মতো। তবে অন্যরা বজ্রপাতে, নৌকাডুবি, সাপের কামড়ে মারা গেছেন।

বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা হিসেবে বিতরণের জন্য সরকার গত ১ এপ্রিল থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত ৭ হাজার ২০ মেট্রিক টন চাল, ৯ কোটি ৪৪ লাখ নগদ টাকা, এক লাখ ৪০ হাজার ১৩২ প্যাকেট/বস্তা শুকনো ও অন্যান্য খাবার, শিশু খাদ্য কেনার জন্য ৪০ লাখ টাকা, গো-খাদ্য কেনার জন্য ৪০ লাখ, গৃহ মঞ্জুরি বাবদ ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৭০০ বান্ডিল ঢেউটিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউএনএইচসিআর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। তারা পুর্নবাসনে সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে। এখন আমাদের আবেদন করতে হবে, তারপর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সরকারিভাবে পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দ কত জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি রয়েছে। বৈঠক শেষে কোন মন্ত্রণালয়ের পুনর্বাসনের জন্য কত বরাদ্দ তা ঠিক করা হবে এবং রেজুলেশন করা হবে।

গত মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টি হয়। এছাড়া উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরায় কয়েকদিন ধরে টানা ভারি বৃষ্টিপাত হয়। দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে কয়েকদিনের অবিরাম ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানিতে ১৩ মে থেকে পূর্বাঞ্চলের সিলেটের সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে এবং সিলেট, সুনামগঞ্জ ও আশপাশের জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পর্যায়ক্রমে এ বন্যা দেশের ১৮টি জেলায় বিস্তৃতি লাভ করে।

আর্কাইভ থেকে

আরও পড়ুন

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘে প্রধান উপদেষ্টার ৭ প্রস্তাব
জাতিসংঘে রোহিঙ্গা ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা
এনসিপিকে শাপলার বিকল্প প্রতীক নিতে চিঠি দেবে ইসি
শর্ত পূরণ করেছে এনসিপিসহ দুটি দল: ইসি
স্ত্রীসহ সাবেক এমপি আলী আজমের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক
ফ্যাসিস্ট শক্তি মোকাবিলা করা বড় চ্যালেঞ্জ: আইজিপি
রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন আজ
দূষিত বায়ুর তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়
আজ বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
বাংলাদেশে হিন্দুবিদ্বেষী কোনো সহিংসতা নেই: প্রধান উপদেষ্টা