8194460 ডলার কিনে বাজার স্বাভাবিক রাখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক - OrthosSongbad Archive

ডলার কিনে বাজার স্বাভাবিক রাখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ডলার কিনে বাজার স্বাভাবিক রাখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য মুখ থুবড়ে পড়েছে। এতে আমদানি কমছে দ্রুত গতিতে। আর আমদানি কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর ডলারের প্রয়োজন হচ্ছে কম। ফলে ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা উদ্বৃত্ত ডলার কিনে বাজার স্বাভাবিক রাখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সুত্র বলছে, টাকার মান ধরে রাখতে বাজার থেকে ডলার কিনতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর প্রেক্ষিতে চার দিনে বাজার থেকে ২৫ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বৃহস্পতিবারেই কিনেছে প্রায় আট কোটি ডলার। প্রায় তিন বছর পর বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে আবার ডলার কিনলো।

বর্তমানে মুদ্রাবাজারে টাকা-ডলারের বিনিময় হার ৮৪ টাকা ৯৫ পয়সা। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এই হার স্থির রয়েছে। আগের মাস জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৮৪ টাকা ৯০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইছে আগামী কয়েক মাস টাকা ও ডলারের এই হার অপরিবর্তিত রাখতে। রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্স উৎসাহিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গেছে।

ব্যাংকগুলো সাধারণত রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় সংগ্রহ করে বৈদেশিক মুদ্রা পায়। আমদানি ব্যয় কমার পাশাপাশি গত কয়েক মাস ধরে রপ্তানি আয়েও মন্দা চলছে। তবে রপ্তানি আয় কমার চেয়ে আমদানি ব্যয় কমার হার বেশি। এ ছাড়া রপ্তানি কমার কারণেও আমদানি কমছে। অন্যদিকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে চাঙ্গাভাব রয়েছে। এতে মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহ অনেকটাই বেড়েছে।

প্রতিটি ব্যাংকের ডলার ধারণের একটি সীমা দেওয়া আছে। কোনো কারণে ওই সীমা অতিক্রম করলেই তা বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য ব্যাংকের কাছে বিক্রি করতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক তার সংবিধিবদ্ধ মূলধনের ২০ শতাংশের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা নিজের কাছে রাখতে পারে না। বৈদেশিক মুদ্রা রাখার এ সীমাকে বলা হয় নেট ওপেন পজিশন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে প্রথম সাত মাসে আমদানি ব্যয় কমেছে সাড়ে ৪ শতাংশ। এর মধ্যে একক মাস হিসেবে জানুয়ারিতেই কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে আমদানি ব্যয় আরো কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) পণ্য আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলা কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ।

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এক হাজার ২২৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২০.২০ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছর থেকে রেমিট্যান্সের বিপরীতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার ফলে রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি বাজার থেকে ডলার কিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পর প্রায় প্রতি মাসেই বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করতে হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালে ১২৩ কোটি ১০ লাখ ডলার, ২০১৮ সালে ২৩৭ কোটি ডলার এবং ২০১৯ সালে ১৬২ কোটি ১০ লাখ ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডলার বিক্রি করা হয়েছে আট কোটি ৩০ লাখ ডলার। তবে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মার্চ থেকে ডলার বিক্রির বদলে উল্টো কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে গত ৯ মার্চ থেকে ১২ মার্চ চার দিনে কেনা হয়েছে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার।

আর্কাইভ থেকে

আরও পড়ুন

চারদিনের ছুটিতে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার
ইসলামী ব্যাংকে এস আলমপন্থি ২০০ কর্মকর্তা বরখাস্ত, ওএসডি ৫ হাজার
বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের বক্তব্য
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ৫৪ গ্রাহকের টাকা উধাও
পাঁচ ব্যাংক চূড়ান্তভাবে একীভূত করতে বসছে প্রশাসক
ডিজিটাল ব্যাংক খোলার আবেদনের সময় বাড়ল
একীভূতকরণে তিন ব্যাংকের সম্মতি, সময় চায় দুটি
একীভূত হতে রাজি গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
ব্র্যাক ব্যাংকের নতুন এমডি ও সিইও হলেন তারেক রেফাত উল্লাহ খান
ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টির জন্য মাস্টার সার্কুলার জারি