এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিয়ার সহনশীলতা ৯০ শতাংশ

এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিয়ার সহনশীলতা ৯০ শতাংশ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের উদ্যোগে ‘ওয়ান হেলথ এসেসমেন্ট অব ইমাজিং এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেসিসটেন্স জেন্স ইন বাংলাদেশি লিভস্টক, ফিডস অ্যান্ড ম্যানার’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে গবেষকরা জানান, বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টিকারী কিছু ব্যাকটেরিয়া এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে ৯০ শতাংশেরও বেশি সহনশীল।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স এবং ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার’র অর্থায়নে সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ট্রেজারার অধ্যাপক রাশেদা আখতার ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নূহু আলম।

গবেষকেরা জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পোল্ট্রি ফিড, গোবর এবং জৈব সারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত নমুনা থেকে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া পৃথকীকরণের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। এদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন এন্টিবায়োটিক (বিটা ল্যাকটাম, কার্বাপেনেম, কোলিস্টিন)-এর প্রতি সহনশীল। যেসব ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার আগে থেকেই লক্ষণীয় ছিল, সেসব ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিকের প্রতি সহনশীলতা বেশি দেখা গেছে।

গবেষণা থেকে জানা যায়, অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়াই ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি সহনশীল। এমনকি শেষ প্রতিরক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে বিবেচিত যেমন- কার্বাপেনেম, কোলিস্টিনের প্রতি কিছু ব্যাকটেরিয়া ৯০ শতাংশের বেশি সহনশীল। আরটি-পিসিআরসহ অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সংগৃহীত ব্যাকটেরিয়া থেকে ১৯টিরও বেশি আন্টিবায়োটিক সহনশীল জীন পাওয়া গেছে।

বক্তারা জানান, এ গবেষণা কাজের মাধ্যমে লাইভস্টোকর মোট ২৪০টি নমুনা থেকে ৩০টিরও বেশি জেনাসসহ মোট ২২৫টি ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হয়েছে। মানুষের মোট ১১০টি নমুনা (ডাইরিয়াল নমুনা) থেকে ৩০টিরও বেশি জেনাসসহ ১৪০টি ব্যাকটেরিয়া শনাক্তকরণ হয়েছে। প্রাপ্ত ব্যাকটেরিয়াগুলো মোট ৯টি অ্যান্টিবায়োটিক গ্রুপের ২০টি অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি ‘অ্যান্টিবায়োটিক অ্যাসসেপটিবিলিটি টেস্ট’ করা হয়েছে।

সেমিনারে আদ দীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের প্রধান ড. কাজী সেলিম আনোয়ার বলেন, গবেষণায় প্রাপ্ত নমুনা সাভারের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ না থেকে সামগ্রিক প্রেক্ষাপট; অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্ট জানার জন্য সমগ্র বাংলাদেশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা উচিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পোস্ট ডক্টরাল ফেলো ড. সাবরিনা হোসাইন বলেন, গবাদি পশুর অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ইতিহাস এবং রেজিস্ট্যান্ট জিনগুলো কোন প্রক্রিয়ার স্থানান্তর হচ্ছে তা শনাক্তকরণ করা জরুরি।

সেমিনারে উপস্থিতি ছিলেন প্রজেক্টের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. সালেকুল ইসলাম ও সহকারী তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. শামসুন নাহার। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী ও গবেষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

অর্থসংবাদ/এমআই

আর্কাইভ থেকে

আরও পড়ুন

ভারতে সাড়ে ৭ মাসে সর্বোচ্চ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা
করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট, ভারতে ২৪ ঘণ্টায় ৭ মৃত্যু
একবছরে সুপার স্পেশালাইজডে সেবা নিলেন ৪১ হাজার রোগী
ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু
দেশে এইডসে  আক্রান্ত ১২৭৬, মৃত্যু ২৬৬
পশ্চিমবঙ্গে ছড়াচ্ছে নতুন প্রজাতির অ্যাডিনো ভাইরাস
ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু ১৭০০ ছুঁই ছুঁই
করোনার নতুন সাব ভ্যারিয়েন্ট জেএন.১
ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু, আক্রান্ত ১৮৮ জন
দেশে ডাক্তার-নার্সের ঘাটতি আছে