বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে চীনের ২৪ নির্দেশনা

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে চীনের ২৪ নির্দেশনা
চীনের স্টেট কাউন্সিল বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে দিকনির্দেশনা দিয়েছে। দেশটির অর্থনীতি গতি হারাচ্ছে—এই বাস্তবতায় রবিবার এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে স্টেট কাউন্সিল ২৪টি নির্দেশনা দিয়েছে। তারা বলেছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের অধিকার রক্ষা করা হবে। সে জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ অধিকার আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে তারা।

এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগে পরিচালিত উদ্যোগগুলোকে আরও বেশি রাজস্ব সহায়তা ও কর প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেই নির্দেশনায়, যেমন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ করলে কিছু সময়ের জন্য আয়কর অব্যাহতি।

স্টেট কাউন্সিল বলেছে, আন্তর্জাতিক তথ্য প্রবাহের জন্য সহজ ও নিরাপদ তথ্য ব্যবস্থাপনা তৈরি করা হবে। আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা ও চীনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে উত্তেজনার কারণে এই প্রস্তাব দিয়েছে তারা। মূলত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে মতবিরোধ চলছে, যার মধ্যে বৈশ্বিক হিসাবরক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোও জড়িত।

কোভিড-১৯-এর পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো চীনের অর্থনীতিও ধাক্কা খেয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেখানে মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা করতে গিয়ে জেরবার হয়ে যাচ্ছে, সেখানে চীনে চলছে নেতিবাচক মূল্যস্ফীতি। বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হলেও নেতিবাচক মূল্যস্ফীতি ও আবাসন খাতের সংকটের কারণে দেশটি সম্পর্কে পূর্বাভাস ভালো নয়। বিশেষ করে, আবাসন খাতের সংকট চীনের জন্য অশনিসংকেত, কারণ, জিডিপির ৩০ শতাংশই আসে এই খাত থেকে।

এ ছাড়া চীন ঋণসংকটেও পড়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ঠিক কত, সেটা জানা কঠিন, কারণ, তাদের দাপ্তরিক তথ্য-উপাত্ত অনেক কম। জেপি মরগ্যান চেইজকে উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, জুন পর্যন্ত চীনের অভ্যন্তরীণ সামগ্রিক ঋণ দেশটির জিডিপির ২৮২ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। উন্নত দেশগুলো সাধারণত এত বেশি হারেই ঋণ নিয়ে থাকে।

ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলে সমস্যা নেই। কিন্তু যেসব ঋণগ্রহীতা মাত্রাতিরিক্ত ঋণ নিয়ে পর্যাপ্ত মুনাফা করতে পারে না, তাদের সমস্যায় পড়তে হয় এবং ঋণদাতাদের অর্থ পরিশোধে হিমশিম খেতে হয়। আর চীনে সেটাই ঘটেছে। এমনকি দেশটির স্থানীয় সরকার ইউনিটগুলোও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে চীন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে এই উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ভূরাজনৈতিক কারণে তাদের এই প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে। কোভিড ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলো পশ্চিমা সরকারের চাপে চীন থেকে কারখানা সরিয়ে নিচ্ছে।

এই বাস্তবতায় দেশটি নতুন করে কতটা বিদেশি বিনিয়োগ পাবে, তা নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা থেকেই যায়। তবে চীন দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সে কারণে তাকে অতটা উপেক্ষা করাও কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আর্কাইভ থেকে

আরও পড়ুন

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামির শঙ্কা
ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে চায় ইসরায়েল
গাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে থাকবেন ট্রাম্প, যুদ্ধবিরতিতে ২০ প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রে এবার ওষুধ রপ্তানিতে ১০০ শতাংশ শুল্ক বসালেন ট্রাম্প
থালাপতি বিজয়ের জনসভায় পদদলিত হয়ে নিহত ৩৯
পাকিস্তানে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাত
উত্তর কোরিয়া ও মিয়ানমারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বড় নিষেধাজ্ঞা
ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর দখল করতে দেব না: ট্রাম্প
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপলো ভেনেজুয়েলা
৭৬% মার্কিনি মনে করেন, ট্রাম্প নোবেল পাওয়ার যোগ্য না