ভারতের টেলিকম খাতে এফডিআইয়ে ধস নেমেছে

ভারতের টেলিকম খাতে এফডিআইয়ে ধস নেমেছে
ভারতের ধুঁকতে থাকা টেলিকম খাতে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগে (এফডিআই) রীতিমতো ধস নেমেছে। আলোচ্য সময়ে এ খাতে মূলধনি এফডিএর প্রবাহ কমেছে ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ। ঋণমান সংস্থা কেয়ার রেটিংসের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। ইকোনমিক টাইমস সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ভারতের টেলিকম খাতে এফডিআইয়ের আকার মাত্র ৫০ কোটি রুপিতে (৭০ লাখ ডলার) নেমে এসেছে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ১৪ হাজার ৮৯৯ কোটি রুপির (২১৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার) এফডিআই পেয়েছিল খাতটি। কেয়ার রেটিংসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের চার অর্থবছরের প্রথমার্ধে এ মূলধনি এফডিআইয়ের গড় প্রবাহ ছিল ২৫ হাজার ৫৫২ কোটি রুপি (৩৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার)।

বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে সংকটের আবর্তে বাঁধা পড়েছে ভারতের টেলিকম খাত। এ সংকট থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে বিদেশী বিনিয়োগ হতে পারত মোক্ষম হাতিয়ার। কিন্তু সর্বশেষ পরিসংখ্যান খাতসংশ্লিষ্টদের আশাবাদী করে তুলতে তো পারছেই না, বরং উল্টো আরো উদ্বেগের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

অবশ্য চলতি প্রান্তিকে এ উদ্বেগ কিছুটা কমতে পারে। সম্প্রতি এটিসি টেলিকম ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেডের ১২ দশমিক ৩১ শতাংশ মালিকানার জন্য এটিসি এশিয়া প্যাসিফিক লিমিটেডের ২ হাজার ৪৮০ কোটি ৯২ লাখ রুপির এফডিআইয়ে অনুমোদন দিয়েছে ভারতের অর্থনৈতিক বিষয়াবলি সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটি সিসিইএ।

চলতি বছরের জুনে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল) ও মহানগর টেলিফোন নিগম লিমিটেডের (এমটিএনএল) প্রতি আহ্বান জানায়, তারা যেন তাদের ফোরজি নেটওয়ার্ক উন্নত করার কাজে ব্যবহূত যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে চীনের বিকল্প উেসর সন্ধান করে।

এটি এখনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা নয়। যদি এ আহ্বান শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়, তবে ভারতী এয়ারটেল, ভোডাফোন আইডিয়া ও রিলায়েন্স জিওর মতো বেসরকারি মুঠোফোন অপারেটরদের যন্ত্রপাতি সংগ্রহের খরচ আরো বেড়ে যেতে পারে বলে কেয়ার রেটিংসের প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘কভিড-১৯ মহামারীর কারণে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ পরিবেশে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে চীন বিমুখতার ফলে অপারেটরদের সম্ভাব্য ব্যয় বৃদ্ধিসহ আরো কিছু চ্যালেঞ্জ যুক্ত হওয়ায় ভারতের টেলিকম খাতে এফডিআই প্রবাহের গতি শ্লথ হয়ে গেছে।’

মূলকথা হলো, ভারতের টেলিকম খাত নানামুখী সংকটের জালে আটকা পড়েছে। এ সংকট থেকে খাতটিকে মুক্ত করতে হলে সরকারকে যেটি করতে হবে সেটি হলো ব্যবহারকারীপ্রতি গড় রাজস্ব (এআরপিইউ) বাড়ানো। আর এটি করা যেতে পারে অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন ও বাড়ি থেকে কাজ করার মতো চর্চা আরো বাড়ানোর মাধ্যমে। এছাড়া করোনা মহামারীর মধ্যে ডিজিটাল প্লাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে সরকারকে।

কেয়ার রেটিংসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের টেলিকম খাতে এআরপিইউ ছিল ৯০ রুপির মতো। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তা ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৫ রুপিতে উন্নীত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ভারতের টেলিকম খাতে শতভাগ পর্যন্ত এফডিআইয়ের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ৪৯ শতাংশ এফডিআই অটোমেটিক রুটে আসতে পারে। আর ৪৯ শতাংশ এফডিআই আসতে হবে সরকারি চ্যানেল হয়ে। এক্ষেত্রে অনুমতিপত্র গ্রহণ ও নিরাপত্তা শর্ত প্রতিপালনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

অর্থসংবাদ/এসএ

আর্কাইভ থেকে

আরও পড়ুন

স্মার্টফোনে ম্যালওয়্যার ছড়াচ্ছে ১৪ অ্যাপ
ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হলে যা করবেন
গোপন নয় ‘ইনকগনিটো’ মুড, গুগলকে ৫৪ হাজার কোটির জরিমানা
বৈদ্যুতিক গাড়ি আনছে শাওমি
গুগল ক্রোম বাংলায় ব্যবহার করবেন যেভাবে
ডিলিট হওয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ফিরে পাবেন যেভাবে
ওয়েবসাইটে জি-মেইল অ্যাড্রেস আনসাবস্ক্রাইব করবেন যেভাবে
আইফোন চুরি হলেও আইডির সুরক্ষা দেবে নতুন ফিচার
দেশে সক্রিয় মোবাইল সিমের সংখ্যা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
আইফোনের ব্যাটারির আয়ু বাড়ানোর উপায়