কোভিড-১৯ নতুন একটি বিবর্তিত রূপ লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এটা প্রথম দেখা দেয় গত সেপ্টেম্বরে। এবং ডিসেম্বরের মধ্যে বহু এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। যা বিবর্তিত হওয়ার আগের রুপ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত দ্রুত ছড়ায়। মূলত করোনাভাইরাসের অধিক সংক্রামক ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ধরন সামনে আসাতেই এ নিষেধাজ্ঞা। এ পর্যন্ত ৩০টির বেশি দেশ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে।
দেশটির সঙ্গে ফ্লাইট স্থগিত করেছে আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, স্পেন, পোলান্ড, ভারত, পাকিস্তান, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, রাশিয়া, হংকং, অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, কানাডা বেলজিয়াম। এর বাইরে ওমান, সৌদি আরব ও কুয়েত তাদের সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা অবলম্বন করছে এবং প্রাথমিকভাবে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। যদিও ফরাসি নিয়মে প্রভাবিত হয়েছে পণ্যবাহী চ্যানেলও। এদিকে সমন্বিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর উদ্দেশ্যে ইইউ সোমবার সকালে বৈঠকও করেছে।
গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সেই এলাকাগুলোয় চার স্তরের নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন। পাশাপাশি লাখো মানুষের জন্য ক্রিসমাসে বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত বাতিলের পরিকল্পনাও চলছে।
শীর্ষ পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেন, এমন কোনো প্রমাণ নেই যে নতুন রূপ আরো বেশি মরণঘাতী কিংবা ভ্যাকসিনের বিরুদ্ধে ভিন্নভাবে কাজ করছে। কিন্তু এটা প্রমাণিত যে এটি ৭০ শতাংশ অধিক সংক্রমণযোগ্য।
গত শনিবার যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নেদারল্যান্ডস জানায়, তারা ১ জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাজ্য থেকে ছাড়তে যাওয়া সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। এরপর রবিবার তারা জানায়, তারা ফেরি যাত্রীদের যুক্তরাজ্য থেকে আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যদিও পণ্যবাহী যানবাহন আসা অব্যাহত থাকবে। রবিবার যুক্তরাজ্যের ওপর নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু ইউরোপীয় দেশ। ফ্রান্স রবিবার মধ্যরাত থেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য ভ্রমণসংক্রান্ত সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি তারা পণ্যবাহী লরিগুলোর যাতায়াতও বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিদিন হাজারো লরি দুটি দেশে আসা-যাওয়া করে।
জার্মানির পক্ষ থেকেও এসেছে ফ্লাইট স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়ে জানানো হয়েছে, রবিবার মধ্যরাতের পর যুক্তরাজ্যের কোনো বিমান জার্মানিতে আসতে পারবে না। তবে কার্গোর ব্যাপারে ছাড় দিয়েছে তারা। এছাড়া বেলজিয়াম, ইতালি, অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া ও তুরস্কও যুক্তরাজ্যের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।